দেশের শিল্পখাতের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট কাটাতে নজিরবিহীন দ্রুততায় নতুন পলিসি বা নীতিমালা প্রণয়নের দিকে হাঁটছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। মাত্র চারদিনের সময়সীমায় নতুন এই নির্দেশিকা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত সুবিধা পাবে বসুন্ধরা গ্রুপের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো। এর ফলে সরকারি বিপিসির বাইরেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তেল আমদানি, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তা দেশের বাজারে সরবরাহের আইনি ভিত্তি পেতে যাচ্ছে।
বর্তমানে বসুন্ধরা তেল শোধনাগার বা রিফাইনারি প্রকল্প তৈরি করলেও, স্থানীয় বাজারে সংশোধিত জ্বালানি তেল বিপণনের ক্ষেত্রে তাদের সুনির্দিষ্ট আইনি অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। প্রচলিত আইন ও দীর্ঘসূত্রী প্রক্রিয়ার কারণে এই উদ্যোগ থমকে ছিল। সরকার আশা করছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন নীতি কাঠামোর আইনি জটিলতা নিরসন করা গেলে বেসরকারি খাত বিপুল পরিমাণ নতুন বিনিয়োগের সুযোগ পাবে এবং দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও সরাসরি আমদানির চাপ কিছুটা শিথিল হবে।
তবে নীতিমালা প্রণয়নের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চারদিনের মতো সংক্ষিপ্ত সময়ে করার পেছনে নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছেন কিছু অর্থনীতিবিদ। তাঁদের মতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে নতুন নীতিমালায় যেন একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ে পুরো খাতের সমান সুযোগ (Level Playing Field) সুসংহত হয় এবং গ্রাহক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক দামে মানসম্মত জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়—সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

0 মন্তব্যসমূহ