ঢাকা, ৩ জুলাই ২০২৬:
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রেলমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এই মেগা প্রকল্পের রেললাইনের নিচ থেকে মাটি অপসারণ করছে, যা দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই যোগাযোগ অবকাঠামোর জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
সম্প্রতি এক জরুরি পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী এই বিস্ফোরক তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "এটি কোনো সাধারণ ঘটনা বা প্রাকৃতিক ধস নয়। আমাদের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে যে, একটি নির্দিষ্ট মহল সুপরিকল্পিতভাবে রেললাইনের নিচের মাটি ও বালু সরিয়ে নিচ্ছে। এর পেছনে নাশকতা নাকি অবৈধ বালু উত্তোলনের কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
মূল সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি
- অবৈধ ড্রেজিং ও মাটি কাটা: পদ্মা সেতুর জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তের সংযোগ রেললাইনের আশপাশের নিচু এলাকা থেকে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি তুলে নেওয়া হচ্ছে।
- কাঠামোগত ঝুঁকি: রেললাইনের তলদেশের মাটি সরে গেলে মূল ট্র্যাকটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে পারে। এর ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা বা লাইনধসের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
- প্রকৌশলীদের উদ্বেগ: প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এভাবে মাটি অপসারণ চলতে থাকলে রেললাইনের 'এমব্যাঙ্কমেন্ট' বা মাটির বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়বে, যা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে।
প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি ও পদক্ষেপ
রেলমন্ত্রী এই অপকর্মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন:
"জাতীয় সম্পদের ক্ষতি করার অধিকার কারো নেই। এই প্রকল্পের সাথে দেশের কোটি মানুষের আবেগ ও অর্থনীতি জড়িত। যারা এর নিচে থেকে মাটি সরিয়ে প্রকল্পটিকে ঝুঁকিতে ফেলছে, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।"
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি), স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ