বিশেষ প্রতিবেদন:
দুই দেশের সীমান্তেই এখন শুধু বন্দুকের নল আর তাড়া খাওয়া মানুষের আর্তনাদ। এক সীমান্ত থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলে অন্য সীমান্তে আশ্রয় মিলবে—এমন ন্যূনতম আশাটুকুও গুড়েবালি। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর অবস্থান আর অনবরত ধাওয়ার মুখে পড়ে এক বৃদ্ধের মানবেতর জীবনযাপনের দৃশ্য উঠে এসেছে। বন্দুকের মুখে, তীব্র অনাহারে ও খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তাঁর।
সীমান্তে আটকে পড়া মানবিক বিপর্যয়
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কোনো এক গোলযোগ বা সংঘাতময় পরিস্থিতির জেরে ওই বৃদ্ধ নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে সীমান্তে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। কিন্তু কোনো পক্ষই তাঁকে নিজেদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
- একদিকের সীমান্ত: বৃদ্ধ এক দেশের সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করলেই সে দেশের রক্ষীরা বন্দুক উঁচিয়ে ধাওয়া করছে।
- অন্যদিকের সীমান্ত: নিরুপায় হয়ে পেছনের দেশে ফিরতে চাইলে বা পাশের অন্য সীমান্তে গেলে সেখানেও মিলছে একই নির্মম আচরণ।
- বর্তমান অবস্থা: দুই দেশের মধ্যবর্তী ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ বা সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েছেন তিনি।
অনাহার আর বুলেটের মুখে জীবন
ভৌগোলিক সীমানার এই নির্মম বেড়াজালে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে মানবিকতা। তীব্র খাদ্য ও পানীয় জলের সংকটে ভুগছেন ওই বৃদ্ধ।
"পেটে এক দানা অন্ন নেই, মাথার ওপর চিলতে ছাদ নেই। একটুখানি আশ্রয়ের খোঁজে এগোলেই গর্জে উঠছে বন্দুকের নল। বয়স আর ক্লান্তিতে শরীর আর চলছে না।"
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তরক্ষীদের কঠোর নজরদারির কারণে কোনো সাধারণ মানুষ বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও তাঁর কাছে সাহায্য নিয়ে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে তীব্র রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দিন কাটছে তাঁর।
আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও উদ্বেগের হাওয়া
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো শরণার্থী বা বিপন্ন মানুষকে এভাবে জীবনঝুঁকির মুখে পুশব্যাক বা পুশইন করা আইনত অপরাধ। এই বৃদ্ধের ঘটনাটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, ভূ-রাজনীতি আর সীমান্ত সুরক্ষার কঠোর মারপ্যাঁচে কীভাবে সাধারণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার পিষ্ট হয়।
মানবাধিকারকর্মীরা অবিলম্বে এই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে মানবিক আশ্রয় ও চিকিৎসা দেওয়ার জন্য দুই দেশের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সীমানার কাঁটাতার যেন একটি জ্যান্ত মানুষের জীবনের চেয়ে বড় না হয়ে ওঠে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

0 মন্তব্যসমূহ