ফুটপাতে ঘুরে ভাঙারি মালামাল সংগ্রাহক থেকে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক—শনিআখড়া ও কদমতলী এলাকার আসলামের উত্থান রূপকথার মতো মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে ভয়াল এক অপরাধচক্র। সম্প্রতি এক রহস্যজনক গোলাগুলিতে আহত হয়ে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করলেও, বের হয়ে আসছে তার জমি দখল ও চাঁদাবাজির চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ভাঙারি বিক্রেতা থেকে সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট
একসময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাঙারি কুড়ানো আসলাম বিগত রাজনৈতিক দলের প্রভাবে ২৮-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে—অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, আইনজীবী ও বিচার বিভাগের অসাধু চক্রকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া দলিল ও একতরফা রায় বের করে সাধারণ মানুষের জমি হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার মূল কাজ।
বুলডোজার দিয়ে বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে উচ্ছেদ
গত এক মাসে মাতুয়াইল হাসপাতালের সামনে, কদমতলী থানার সম্মুখে ও কলেজ রোডে তিনটি বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এই সিন্ডিকেট। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সেখানে ৩০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছিল। জমি দখলের পর পুলিশ ও ভুয়া কাগজের ভয় দেখিয়ে তাদের এলাকাছাড়া করা হয়।
৩ কোটি টাকার ভাগবাটোয়ারা
জমি দখলের এই বাণিজ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী, ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও প্রশাসনের অসাধু কর্তারা মোটা অঙ্কের অর্থ পেতেন। সাম্প্রতিক এক দখলের পর আনুমানিক ৩ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে:
কমিশনার মীর হোসেন মীরু: ১ কোটি টাকা
কালা স্বপন (তারা মিয়ার ছেলে): ৫০ লাখ টাকা
আবু নাছের: ২০ লাখ টাকা
পলাশ: ১০ লাখ টাকা
কালা জুয়েল: ৫ লাখ টাকা
ফলওয়ালা কামরুল: ৫ লাখ টাকা
অবশিষ্ট অর্থ উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া অসাধু ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনিক চক্রের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জুলুমের পর শনিআখড়া ও আশেপাশের সাধারণ মানুষ এখন এই সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের উচ্ছেদ এবং আসলামসহ তার দোসরদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

0 মন্তব্যসমূহ