নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
২৮ জুন, ২০২৬
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের নেতা নুরুল আলমের মৃত্যুকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক ও অভিযোগের অবসান ঘটিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নুরুল আলমের গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ, কারাগারে প্রেরণ এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে কোনো ধরনের আঘাত বা নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়নি।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
ঘটনাপ্রবাহ ও পুলিশের বক্তব্য
এসপি মাসুদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে যুবলীগ নেতা নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর থেকে শুরু করে আদালতে হাজির করা এবং পরবর্তীতে কারাগারে পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি বিধিমালা মেনেই সম্পন্ন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার যে ধারাবাহিক বিবরণ দেওয়া হয়েছে তা নিচে তুলে ধরা হলো:
আইনানুযায়ী গ্রেপ্তার ও সোপর্দ: আসামিকে গ্রেপ্তারের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থানায় নেওয়া হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে অসুস্থতা: কারাগারে থাকাকালীন নুরুল আলম হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
হাসপাতালে মৃত্যু: শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সুরতহাল রিপোর্টে আঘাতের চিহ্ন নেই
নুরুল আলমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে নির্যাতনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আইনি নিয়ম মেনে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে।
"সুরতহাল প্রতিবেদনে নুরুল আলমের শরীরে কোনো ধরনের আঘাত, জখম বা নির্যাতনের আলামত মেলেনি। আইনগত সব প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে। অপপ্রচার বা বিভ্রান্ত ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।"
— এসপি মাসুদ, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, কারাগারের ভেতরে কোনো কয়েদি বা হাজতির মৃত্যু হলে যে ধরনের আইনি ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত মেডিকেল কারণ আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে। অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ