Ticker

6/recent/ticker-posts

পাইকারি মামলা ও ঢালাও তকমা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেনের উদ্বেগ

The Daily Alokbarta


ঢাকা: 

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দলটির মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এসব মামলার আইনি ভিত্তি, আসামির সংখ্যা এবং ঢালাওভাবে তকমা দেওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

​সম্প্রতি বিভিন্ন সেমিনার ও সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই বিচারিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

​"সব কর্মী কি খুন করেছে বা বোমা ফেলেছে?"

​ব্যারিস্টার সারা হোসেন প্রশ্ন তোলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিটি কর্মী বা সমর্থক কি অপরাধের সাথে যুক্ত? তিনি বলেন, "প্রত্যেক আওয়ামী লীগ কর্মী কি খুন করেছে? বোমা ফেলেছে? তাহলে কোন যুক্তিতে তাদেরকে ঢালাওভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে বা ঢালাও মামলার আসামি করা হচ্ছে?"

​তার মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে পুরো একটি গোষ্ঠীকে অপরাধী বা সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা আইনি ও মানবাধিকারের মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের দায় ব্যক্তিভিত্তিক হওয়া উচিত, দলগত বা ঢালাও নয়।
​'পাইকারি মামলা' টিকবে না

​আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সারা হোসেন বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে এমন সব মামলা দেখা যাচ্ছে যেখানে একটি মামলায় ৩০, ৪০ বা ৫০ জনের বেশি মানুষকে আসামি করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন:

​"মানুষের মনে অনেক রাগ ও ক্ষোভ থাকতে পারে, কিন্তু এ ধরনের মামলা লিখলে তা আদালতে টিকবে না। প্রথম ধাপই পার হতে পারবে না। এই পাইকারি মামলাগুলো মূলত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল ও তার নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এটা দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার।"

​রিমান্ড ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা

​গত ১৫ বছর ধরে রিমান্ডে নিয়ে যেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ এবং গণমাধ্যমে তা প্রচার করা হয়েছে, বর্তমান সময়েও তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রিমান্ডে আসামি কী বলেছেন বা না বলেছেন, তা যথাযথ আইনি সূত্র ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশ বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

​আইনি সমাধানের তাগিদ

​সারা হোসেন মনে করেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যে সহিংসতা ও শিশুসহ শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার বিচার অবশ্যই হতে হবে। তবে তা করতে হবে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের মাধ্যমে। তিনি বলেন, "আইনকে নিজের মতো চলতে দিন। অতীতে আপনারা যে অবিচারের মুখোমুখি হয়েছেন, ক্ষোভের বশে অন্য কাউকে ঠিক একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাবেন না।"

​আইনজীবীদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে সুনির্দিষ্ট অপরাধের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া চালানোই নতুন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ