Ticker

6/recent/ticker-posts

চট্টগ্রামে অস্ত্রবাজি-খুনে বেপরোয়া সন্ত্রাসীরা, লাগাম টানতে হিমশিম পুলিশ

The Daily Alokbarta


নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, প্রকাশ্য অস্ত্রবাজি এবং একের পর এক খুনের ঘটনা। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক কোন্দলকে কেন্দ্র করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। আর এসব দুর্ধর্ষ অপরাধীদের লাগাম টানতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। গোয়েন্দা নজরদারির দুর্বলতা এবং মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​বিদেশে বসে নিয়ন্ত্রণ, সক্রিয় বিশাল বাহিনী
​অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম শীর্ষ পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান (বড় সাজ্জাদ) বিদেশে বসেই পুরো মহানগরের চাঁদাবাজি ও খুনের মিশন নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁর হয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে অর্ধশতাধিক সক্রিয় সদস্যের একটি বিশাল বাহিনী।

​কারাগারে থাকা 'ছোট সাজ্জাদ' নামের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীর বাহিনীও বাইরে সক্রিয় রয়েছে। পুলিশ জানায়, ছোট সাজ্জাদ কারাগারে থাকলেও বাইরে তাঁর বাহিনীর হাল ধরেছে মোবারক হোসেন ইমন (ডেভিড ইমন), মোহাম্মদ রায়হান ও বোরহান উদ্দিনের মতো চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। তারা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের কাছে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছে এবং চাঁদা না দিলে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি চালাতে দ্বিধা করছে না।

​একের পর এক প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড
​সম্প্রতি চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী, রাউজান ও হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা ঘটেছে:

​জনসংযোগে প্রকাশ্য গুলি: বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় রাজনৈতিক জনসংযোগের সময় ভিড়ের মধ্যে প্রকাশ্য পিস্তল ঠেকিয়ে সরোয়ার হোসেন নামের এক যুবককে পরপর সাতটি গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।

​ডাবল মার্ডার: বায়েজিদ ও হাটহাজারী সীমানা-সংলগ্ন কুয়াইশ এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুন করা হয় মো. আনিস ও মাসুদ কায়সার নামের দুই যুবককে।

​রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতা: চট্টগ্রামের রাউজান ও এর আশপাশের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। কখনো বোরকা পরে এসে বাজারে প্রকাশ্য গুলি করা হচ্ছে, আবার কখনো চলন্ত গাড়িতে ব্রাশফায়ার করে রাজনৈতিক কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে।

​উদ্ধার হচ্ছে না অস্ত্র, অধরা মূল হোতারা
​অপরাধের ধরন দেখে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য অস্ত্র হাতে ঘুরে বেড়ালেও এবং সেসবের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ মূল অস্ত্রধারীদের ধরতে পারছে না। এমনকি অনেক আসামিকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিলেও তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

​এদিকে জেলা ও মহানগর আইনশৃঙ্খলা কমিটির সাম্প্রতিক সভাগুলোতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার, আগের অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।

​পুলিশের বক্তব্য
​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের কারণেই এই খুনের ঘটনাগুলো ঘটছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত বেশ কিছু আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে এবং মূল হোতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও স্থানীয়দের তথ্যগত সহায়তা ছাড়া এসব অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

​বর্তমানে চট্টগ্রামের বায়েজিদ, রাউজানসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়দের দাবি, অতি দ্রুত বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং গা ঢাকা দিয়ে থাকা মূল সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ