Ticker

6/recent/ticker-posts

সরকারি অনুদানের অপেক্ষায় না থেকে নিজেদের ভাগ্য বদলালেন গ্রামবাসীরা: তৈরি হলো নতুন রাস্তা


 উপযুক্ত যোগাযোগের অভাবে বছরের পর বছর ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তরগুলোর দরজায় কড়া নেড়েও মেলেনি কোনো সমাধান। অবশেষে সরকারি অনুদান বা সহায়তার আশা ছেড়ে দিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে একাট্টা হলেন গ্রামবাসী। স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজেদের জমানো টাকায় নিজেরাই বানিয়ে ফেললেন বহুল প্রতিক্ষিত রাস্তাটি।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁচা ও ভাঙাচোরা এই রাস্তাটি দিয়ে বর্ষাকালে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তো। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ হেঁটে যেতেও হিমশিম খেতেন। বিশেষ করে বয়স্ক, স্কুলের শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম বিপাকে পড়তে হতো। বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও রাস্তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

​অবশেষে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে গ্রামের যুব সমাজ ও প্রবীণরা মিলে একটি সভা করেন। সেখান থেকেই উঠে আসে নিজেদের উদ্যোগে রাস্তাটি তৈরি করার সিদ্ধান্ত। গ্রামের প্রতিটি পরিবার তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। যারা টাকা দিয়ে সাহায্য করতে পারেননি, তারা এগিয়ে আসেন কায়িক শ্রম দিতে।

​"আমরা দীর্ঘদিন ধরে একটি পাকা বা চলার উপযোগী রাস্তার জন্য আকুতি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিই। টাকা এবং শ্রম—সবই গ্রামের মানুষের। এখন আমাদের আর কারও কাছে হাত পাততে হচ্ছে না।"

— এক স্থানীয় গ্রামবাসী

​কয়েক সপ্তাহের হাড়ভাঙা খাটুনি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অবশেষে আলোর মুখ দেখেছে রাস্তাটি। গ্রামজুড়ে এখন বইছে আনন্দের বন্যা।

​গ্রামবাসীদের এমন আত্মনির্ভরশীলতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস কেবল তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থারই পরিবর্তন ঘটায়নি, বরং আশেপাশের অন্য গ্রামগুলোর জন্যও এক অনন্য ও অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ