বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের কাছে বাংলাদেশ তার বহুল কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে বলে দাবি করেছেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান।
বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড এক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি পোশাক খাতের এই উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেন।
প্রধান সংকট ও চ্যালেঞ্জসমূহ
ব্যবসায়ী নেতা ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, দেশের পোশাক খাত বর্তমানে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম কঠিন সংকটকাল পার করছে। প্রধান যে চ্যালেঞ্জগুলো এ খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে:
- উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক সংকট: গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি, তীব্র সুদের হার এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্থানীয় কারখানাগুলোতে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে।
- প্রধান বাজারে ধস: বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) বাজারে সাম্প্রতিক রপ্তানি প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
- নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতা: নীতিগত অনিশ্চয়তা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সংক্রান্ত জটিলতা ও কাস্টমস প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- কারখানা বন্ধ: স্থানীয় শিল্পাঞ্চলগুলোতে বহু কারখানা সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে।
বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনাম: বর্তমান চিত্র
ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউটিও) এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক তথ্যানুসারে:
|
সূচক |
বাংলাদেশ |
ভিয়েতনাম |
|---|---|---|
|
অবস্থান |
৩য় (ফারুক হাসানের ভাষ্যমতে) |
২য় |
|
মূল শক্তি |
বেসিক এবং সাশ্রয়ী পোশাক উৎপাদনে বড় সক্ষমতা |
পণ্যের বৈচিত্র্যায়ন ও দ্রুত লিড টাইম |
|
রপ্তানি প্রবৃদ্ধি |
ধীরগতি ও সাময়িক ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি |
ইতিবাচক ধারা ও লক্ষ্যমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী |
“আমরা যদি দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজার ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং ভ্যালু-এডিশনে নজর না দিই, তবে অবস্থান পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
— শিল্প নেতৃবৃন্দ
উত্তরণের উপায়
সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকরা মনে করেন, হারিয়ে যাওয়া অবস্থান পুনরুদ্ধার ও নতুন সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:
- জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ রাখা।
- লজিস্টিক ও বন্দর সক্ষমতা বৃদ্ধি: কাস্টমস ছাড়পত্র দ্রুত করা এবং সহজ শর্তে বন্ডেড সুবিধা নিশ্চিত করা।
- পণ্যের বৈচিত্র্যায়ন (Diversification): কৃত্রিম তন্তু (Man-made fiber) ও উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানো।

0 মন্তব্যসমূহ