নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
১৩ জুন, ২০২৬
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার একটি বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে এক যুবদল নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবদল নেতার নাম মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) (মাকসুদুল হক মাসুদ নামেও পরিচিত)। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে এবং বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই।
যেভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুর দেড়টার দিকে মাসুদুল হক চৌমুহনী বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ৫ থেকে ৭ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সেখানে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা মাসুদুল হককে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
তার মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে গুলি লাগলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা অটোরিকশা যোগে দ্রুত পালিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী:
- ব্যবসায়িক বিরোধ: কর্ণফুলী নদীতে বালু উত্তোলন ও বালুর ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
- রাজনৈতিক ও নির্বাচনী হাড্ডাহাড্ডি: আসন্ন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়টিকেও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
তিন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ ও উত্তেজনা
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বেলা দুইটার পর থেকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই ও চট্টগ্রাম-রাঙামাটি আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়।
- রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকা
- রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এলাকা
- চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের রানীর হাট এলাকা
অবরোধের কারণে মহাসড়কগুলোর দুপাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিকেল পৌনে চারটার দিকে আন্দোলনকারীরা সড়ক থেকে সরে যান এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রশাসনের বক্তব্য
রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ বেলায়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
"সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাঙ্গুনিয়ার বেতাগীর স্বপন চেয়ারম্যানের ছোট ভাই নিহত হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। এই সশস্ত্র হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে।"
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ