Ticker

6/recent/ticker-posts

প্রিপেইড মিটারের ভাড়া প্রত্যাহারের খবরটি ‘গুজব’, আগের নিয়মেই কাটছে টাকা

The Daily Alokbarta


নিউজ ডেস্ক ||

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া প্রত্যাহারের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে প্রমাণিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং মাঠপর্যায়ে আগের নিয়মেই গ্রাহকদের কাছ থেকে মিটারের ভাড়া কাটা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তাদের তথ্যে এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​বহাল আছে আগের ভাড়া, গ্রাহকদের মাঝে অসন্তোষ

​দেশজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৫৫ লাখ গ্রাহক প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহার করছেন। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে:

​একফেজ (Single Phase) প্রিপেইড মিটার: ৪০ টাকা ভাড়া।

​তিনফেজ (Three Phase) প্রিপেইড মিটার: ৪২ টাকা ভাড়া।

​এছাড়া সংযোগের সক্ষমতা অনুযায়ী গ্রাহকদের আলাদা ডিমান্ড চার্জও দিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুটি বাড়তি খরচ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ কাজ করছে।

​এরই মধ্যে গত ৩ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়—সরকার প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া তুলে দিচ্ছে। তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের বিল ও রিচার্জের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভাড়া বাতিলের খবরটি সত্য নয় এবং আগের মতোই নিয়মিত টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে।

💡 এক নজরে প্রিপেইড মিটারের রাজস্ব গণিত:

দেশের ৫৫ লাখ গ্রাহক যদি সর্বনিম্ন (একফেজ) ৪০ টাকা করেও ভাড়া দেন, তাহলেও:

• প্রতি মাসে আদায় হয়: প্রায় ২২ কোটি টাকা

• প্রতি বছরে আদায় হয়: প্রায় ২৬৪ কোটি টাকা

বিইআরসি ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য

​বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, প্রিপেইড মিটার প্রকল্প ২০১৭ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। সেই নীতিমালায় পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত মিটার ভাড়া আদায় বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, প্রিপেইড মিটারের ভাড়া প্রত্যাহার সংক্রান্ত কোনো আবেদন যেমন কমিশনের কাছে জমা পড়েনি, তেমনি কমিশনও এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

​বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তাদের মতে, প্রিপেইড মিটার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছিল, যার একটি অংশ এই মিটারের ভাড়া থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে। বিদ্যুতের মূল্য, মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ এবং কর—সবকিছু একটি সমন্বিত আর্থিক কাঠামোর আওতাধীন। ফলে হুট করে এই রাজস্ব বন্ধ করে দিলে সরকারকে সরাসরি এই বিশাল আর্থিক দায় বহন করতে হবে অথবা অন্য কোনো উৎস থেকে বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

​বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

​জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত যেকোনো নীতিগত পরিবর্তন বা সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে তা সরকারি প্রজ্ঞাপন বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার আনুষ্ঠানিক আদেশের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারি ঘোষণা যাচাই করা জরুরি। এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে গুজব ছড়ালে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ভুল প্রত্যাশা তৈরি হয় এবং সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। তাই যেকোনো তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করাই শ্রেয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ