নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জুলাই ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনা ও রাজস্ব বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টার্মিনালটির অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে জাপানি কনসোর্টিয়াম।
সরকার পরিবর্তনের পর এ সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা ও দ্বিমতগুলোর চূড়ান্ত সুরাহা করা হয়েছে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
৪ জাপানি কোম্পানির কনসোর্টিয়াম
চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাপানের চারটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম এই টার্মিনালের দায়িত্ব নেবে। কনসোর্টিয়ামের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলো হলো:
১. জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি (Japan Airport Terminal Co.)
২. সুমিতোমো কর্পোরেশন (Sumitomo Corporation)
৩. নিপ্পন কোয়েই (Nippon Koei)
৪. নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন (Narita International Airport Corporation)
রাজস্ব বণ্টন চুক্তি
নতুন নির্ধারিত রাজস্ব বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা থেকে অর্জিত মোট রাজস্বের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি কনসোর্টিয়াম এবং বাকি ২৭ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ সরকার (বেবিচক)। এই টার্মিনালে বিমানের পাশাপাশি দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের ক্ষমতাও থাকবে জাপানি পক্ষের হাতে, যার ফলে যাত্রীদের সেবার মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কার্গো ভিলেজের একক কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছেই থাকছে।
চলতি বছরেই চালুর সম্ভাবনা
সম্প্রতি ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে জাপানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, তৃতীয় টার্মিনালের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করে আগামী ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) এর মধ্যেই এটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে।
২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই অত্যাধুনিক টার্মিনালটি চালু হলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা আরও ১২ থেকে ১৬ মিলিয়ন বৃদ্ধি পাবে, যা বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

0 মন্তব্যসমূহ