ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখে জমে থাকা দীর্ঘদিনের বর্জ্যের স্তূপ অপসারণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এতে যেমন বহুদিনের পুঞ্জীভূত দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেয়েছে বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, তেমনি প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী কলাতিয়া খাল ও আশপাশের পরিবেশ। ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্ভাবনী সেবা ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের একটি লিখিত অভিযোগের দ্রুত পর্যালোচনার পর এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কলাতিয়া বাজার ও সংলগ্ন এলাকার গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক বর্জ্য ফেলার অনিয়মিত অভ্যাসে রূপান্তরিত হয়েছিল খালের সংলগ্ন অংশটি। ব্রিজের নিচে ও খালের মুখে জমে থাকা ময়লার স্তূপ প্রতিদিনের যাতায়াতে শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয়দের জন্য এক দুঃসহ যন্ত্রণার রূপ নেয়। খালের পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির দিনে তৈরি হতো জলাবদ্ধতা ও মশার চরম উপদ্রব।
সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে গত রোববার (১০ আগস্ট) স্থানীয় জনৈক নাগরিক ঢাকা জেলা প্রশাসনের পরিচালিত ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ জানান। অভিযোগটি প্রত্যক্ষ করে ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফরোয়ার্ড করেন। প্রশাসনিক নির্দেশনার পরপরই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবর্জনার স্তূপ দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, “শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখা নাগরিকের অধিকার এবং আমাদের দায়িত্ব। ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ চালু করার মূল উদ্দেশ্যই হলো নাগরিক দুর্ভোগের খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের খাল ও ব্রিজ পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে আমরা আরও একবার তা বাস্তবায়ন করলাম। তবে কেবল অপসারণই শেষ কথা নয়; স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে যাতে কেউ পুনরায় যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলেন।”
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলী প্রশাসনের এই দ্রত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে স্থানটিতে নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

0 মন্তব্যসমূহ