সদ্য প্রকাশিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এক অভূতপূর্ব বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রাপ্ত পরিসংখ্যান ও ডাটাবেইজ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ বছর প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। একযোগে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করার ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে ফলাফলের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে বিশেষ পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।
তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সূচক গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী। বিশেষ করে গণিত, ইংরেজি এবং বিজ্ঞান বিভাগের তুলনামূলক কঠিন বিষয়গুলোতে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল শহর অঞ্চলের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে, যা সামগ্রিক পাসের হারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট, সময়মতো পাঠ্যসূচি শেষ না হওয়া এবং নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে না পারাকে এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন শিক্ষা গবেষকরা।
এদিকে ফলাফল প্রকাশের পরপরই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে খাতা পুনর্নিরীক্ষণ বা 'বোর্ড সেলেঞ্জ'-এর জন্য আবেদন জমা দেওয়ার ঢল নেমেছে। অনেক অভিভাবকের দাবি, খাতা মূল্যায়নে অসমতা ও ভুলত্রুটি থেকে থাকতে পারে। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রাপ্ত আবেদনগুলো অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে পুনর্নিরীক্ষা করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ফলাফলের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করে দুর্বল পারফর্ম করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। যেসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি ফেল করেছে, সেগুলোর ওপর বিশেষ রিমেডিয়াল ক্লাস এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে আগামী পরীক্ষাগুলোতে এই ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়।

0 মন্তব্যসমূহ