বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে সাংবাদিক কাজী জেসিনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ঘিরে চরম প্রশাসনিক ও আইনগত জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালা অমান্য করে এবং আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসনিক খাতে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও নিয়োগের বৈধ্যতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ নীতিমালায় দ্রুত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
আইনি ত্রুটি ও জটিলতার মূল জায়গা
বিটিভির বিদ্যমান চাকরি বিধিমালা ও বিসিএস (তথ্য) ক্যাডার সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে কাজী জেসিনের নিয়োগের একাধিক ধারা সাংঘর্ষিক বলে চিহ্নিত করেছেন আইন বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা:
ক্যাডার কাঠামোর লঙ্ঘন: নিয়ম অনুযায়ী বিটিভির মহাপরিচালক পদটি তথ্য ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদগুলোর একটি। কোনো নন-ক্যাডার বা প্রেষণবহির্ভূত ব্যক্তি সরাসরি চুক্তিভিত্তিক এ পদে বসলে বিসিএস (তথ্য) ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতির স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হয়।
নিয়োগ বিধিমালার তোয়াক্কা না করা: বিটিভির বিদ্যমান প্রবিধানমালায় চুক্তিভিত্তিক ডিজি নিয়োগের ক্ষেত্রে যে বয়সসীমা ও অভিজ্ঞতার সুস্পষ্ট বাধ্যবাধকতা রয়েছে, কাজী জেসিনের নিয়োগের ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
চুক্তিভিত্তিক প্রশাসনিক অসঙ্গতি: আগের সরকারের আমলের বিতর্কিত নিয়োগ প্রথা বাতিলের দাবি থাকা সত্ত্বেও একই প্রক্রিয়ায় আইন শিথিল করে এ নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারের পরবর্তী উদ্যোগ
বিতর্ক ও আইনি চ্যালেঞ্জ এড়াতে প্রশাসনিক উপায়ে এটি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর অনুযায়ী:
বিদ্যমান বিটিভি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিধি আরও স্পষ্ট ও শিথিল করার প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে নতুন খসড়া অনুমোদনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, যাতে ভূতাপেক্ষ প্রভাবে (Retrospective effect) এই নিয়োগকে বৈধতা দেওয়া যায়।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন না মেনে নিয়োগ দেওয়ার পর সেটি ঢাকার জন্য তড়িঘড়ি করে আইন সংশোধন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে।

0 মন্তব্যসমূহ