মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাবেক নারী সেনাসদস্য বেশ কিছু দিন ধরেই অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য শাহ আলম খলিফার (৫০) উত্যক্তকরণের শিকার হয়ে আসছিলেন। আসামির অনৈতিক কুপ্রস্তাবের বিষয়টি ভুক্তভোগী তার স্বামীকে জানালে, তাকে সাবধানে চলাফেরা করতে বলা হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তকে এসব অপকর্ম বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
ঘটনার দিন গত ৩১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভুক্তভোগী নারী নিজ জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করতে যান। সেখানে পূর্ব শত্রুতা ও অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার জের ধরে অভিযুক্ত শাহ আলম খলিফা তার ৫-৬ জন সশস্ত্র সহযোগীকে নিয়ে উপস্থিত হন এবং জমি পরিমাপের কাজে বাধা দেন। নারী সেনাসদস্য ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য প্রকাশ্যে পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাব দেন।
ভুক্তভোগী রাজি না হলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক নিজের বসতঘরের ভেতর টেনে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টাকালে ভুক্তভোগীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এজাহারের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাহ আলম খলিফা পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।

0 মন্তব্যসমূহ