Ticker

6/recent/ticker-posts

মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি জেনেও দেশে ফেরার ঘোষণায় অটল শেখ হাসিনা: কিওডো নিউজ

 

ফাঁসি বা কারাবাসের মতো গুরুতর ঝুঁকির কথা জানা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফিরে আদালতে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন ভারতে নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। জাপানের আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘কিওডো নিউজ’-কে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে তিনি এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।  

​জীবনের ঝুঁকি ও আদালতে উপস্থিতির প্রতিশ্রুতি

​সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানান, দেশে ফিরলে তাঁকে কারারুদ্ধ করা হতে পারে, এমনকি তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টাও করা হতে পারে—এসব ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন।  

​"আমি বাংলাদেশে ফিরে আসব এবং আদালতের মুখোমুখি হব। তারা আমাকে কারাগারে পাঠাতে পারে, এমনকি ফাঁসিতে ঝোলানোর চেষ্টাও করতে পারে। আমি এসব ঝুঁকির কথা জানি।"

— শেখ হাসিনা (কিওডো নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে)

  

​এর আগে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া অন্য এক সাক্ষাৎকারেও তিনি জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।  

​বিচারপ্রক্রিয়া ও পেছনের প্রেক্ষাপট

​২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুথানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।  

​তবে এই রায়কে শুরু থেকেই "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন আওয়ামী লীগ প্রধান।  

​এদিকে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা ও বিচারের মুখোমুখি করতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আইনি ও বিচারিক কাঠামোর আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।  

​সহিংসতার তদন্ত ও বিদেশি বিশেষজ্ঞের দাবি

​জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলির অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ হাসিনা বলেন, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিদেশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা যদি প্রতিটি মৃত্যুর পেছনের অস্ত্র ও গুলি পরীক্ষা করেন, তবেই আসল সত্য উদঘাটিত হবে।  

​গণতন্ত্র ও পুনর্মিলন নিয়ে বক্তব্য

​বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন:  

​ক্ষত নিরাময় ও পুনর্গঠন: দেশের জন্য এই মুহূর্তে প্রয়োজন সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষত নিরাময় এবং গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা করা।  

​দায়মুক্তির বিপক্ষে: জাতীয় পুনর্মিলনের কথা বললেও তা কোনোভাবেই অপরাধীদের "দায়মুক্তি" দেওয়া নয়। প্রকৃত অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতেই হবে।  

​আগামী দশকের রূপরেখা: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তবে শেখ হাসিনার মতে, আগামী এক দশক বাংলাদেশের জন্য একটি 'পুনরুদ্ধার ও নবায়নের' সময় হতে পারে, যদি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হয় এবং দেশের জনগণকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ