রাজধানীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সফর করে দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, এনসিপির রাজনৈতিক দর্শন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি (Agreement on Reciprocal Trade) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে উত্থাপিত প্রধান বিষয়সমূহ
বাণিজ্য চুক্তি ও জনগণের উদ্বেগ:
বৈঠকে এনসিপি নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এর জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তাঁর প্রতিনিধিদল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দেন এবং চুক্তিটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং উভয় দেশের জনগণ এর সুফল পাবে।
গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জুলাই সনদ:
বৈঠকে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে দলটির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য:
মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক সংলাপ, অংশীদারত্বমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন।
উপস্থিত প্রতিনিধিদল
মার্কিন প্রতিনিধিদল:
রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি বৈঠকে দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপি প্রতিনিধিদল:
এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এবং সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ্।
বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

0 মন্তব্যসমূহ