Ticker

6/recent/ticker-posts

সিঙ্গাপুরকে সরিয়ে স্টারলিংকের নতুন ট্রানজিট হাব বাংলাদেশ: গাজীপুরে স্থাপিত হচ্ছে গ্লোবাল কানেক্টিভিটি সেন্টার

The Daily Alokbarta


নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

​দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল মানচিত্রে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'স্পেসএক্স'-এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক (Starlink) তাদের আঞ্চলিক নেটওয়ার্কের ট্রানজিট হাব হিসেবে বাংলাদেশকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে এতদিন ধরে চলে আসা সিঙ্গাপুর-কেন্দ্রিক আঞ্চলিক ইন্টারনেট হাবের নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ সরাসরি বৈশ্বিক ডিজিটাল মহাসড়কে যুক্ত হচ্ছে।

​গাজীপুরে বসছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গ্রাউন্ড স্টেশন

স্টারলিংকের নতুন এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক। এখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও অত্যাধুনিক গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই গ্রাউন্ড স্টেশনে প্রায় ৮০টিরও বেশি অ্যান্টেনা স্থাপন করা হচ্ছে, যা স্টারলিংকের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান 'নার্ভ সেন্টার' হিসেবে কাজ করবে।

​কেন এই পরিবর্তন?

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে, বিশেষ করে ভুটান ও নেপালের মতো দেশগুলোতে ইন্টারনেট সেবা দিতে সিঙ্গাপুরের গ্রাউন্ড স্টেশন ব্যবহার করে স্টারলিংক, যা বেশ ব্যয়বহুল এবং এতে ল্যাটেন্সি (ডেটা আদান-প্রদানের সময়) অনেক বেশি। বাংলাদেশকে ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করলে:

  • ​ল্যাটেন্সি হ্রাস: ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ডেটা আদান-প্রদানের সময় (Latency) ৫০ মিলিসেকেন্ডের নিচে নেমে আসবে।
  • ​সাশ্রয়ী সেবা: পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্য ইন্টারনেট খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
  • ​ডিজিটাল অবকাঠামো: বাংলাদেশ শুধুমাত্র নিজের ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই অঞ্চলের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে।

​সরকারের সাথে চুক্তি ও নিরাপত্তা

বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন)-এর সাথে আলোচনার মাধ্যমে এই ট্রানজিট হাবের চূড়ান্ত অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়েছে। স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ তাদের টেকনিক্যাল মনিটরিং সিস্টেম বিটিআরসির কাছে জমা দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, দেশীয় ব্যবহারকারীদের জন্য ইন্টারনেট সেবা স্থানীয় আইন ও নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী ফিল্টারিং ও কনটেন্ট ব্লকিংয়ের আওতাভুক্ত থাকবে, তবে আন্তর্জাতিক ডেটা ট্রানজিটের ক্ষেত্রে সরকার ও স্টারলিংক একটি বিশেষ সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করবে।

​প্রযুক্তি খাতে নতুন বিপ্লব

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারলিংকের এই বিশাল বিনিয়োগ বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) গবেষণা এবং দুর্গম এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করবে। কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে স্থাপিত এই অবকাঠামো কেবল ইন্টারনেট নয়, বরং ভবিষ্যতে ডাটা সেন্টার ও এআই গবেষণার একটি হাব হিসেবেও গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

​ইতোমধ্যেই স্টারলিংক বাংলাদেশের বিভিন্ন হাইটেক পার্কে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং স্থানীয়ভাবে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে। এই ট্রানজিট হাব চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারে নিজের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিল।

​সূত্র: বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্যাবলীর ভিত্তিতে সংকলিত।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ