নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ অসংখ্য মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও হবিগঞ্জে দায়ের করা একের পর এক মামলায় তার আইনি জটিলতা ক্রমশ বাড়ছেই। মামলার বর্তমান গতি-প্রকৃতি এবং আদালতের পর্যবেক্ষণে এটিই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, সহসা তার কারামুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দোলা চৌধুরী সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে বলেন, "মাঝেমধ্যে তার জামিনের খবরে যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়, তা নিতান্তই সাময়িক। প্রকৃতপক্ষে তার কারামুক্তি সহজ কোনো বিষয় নয়। মামলার পরিমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার যে ধীরগতি, তা বলে দেয় তাকে কারাগারেই জীবনের দীর্ঘ একটি সময় কাটাতে হতে পারে।"
আইনি জটিলতায় ব্যারিস্টার সুমন
২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর মিরপুর, আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন মামলার কারণে তার মুক্তিতে বারবার বাধা তৈরি হচ্ছে। যদিও উচ্চ আদালত কোনো কোনো মামলায় তাকে জামিন দিয়েছিলেন, তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেগুলোর ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।
বিশেষ করে ১৮ জুন ২০২৬ তারিখেও আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার দুটি হত্যা মামলায় তার জামিন স্থগিত করে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে আইনি বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসা তার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কেন দীর্ঘ কারাবাসের আশঙ্কা?
আইনজীবীদের মতে, ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে কেবল একটি বা দুটি নয়, বরং একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলা।
- একাধিক জেলার মামলা: ঢাকা ছাড়াও হবিগঞ্জের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ফলে এক মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট (শোন অ্যারেস্ট) হওয়ার কারণে কারাগার থেকে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
- রাষ্ট্রপক্ষের কঠোর অবস্থান: প্রতিটি জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ তীব্র বিরোধিতা করছে, যার ফলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় জামিন পাওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বার কাউন্সিলে ফেরার মরিয়া চেষ্টা
কারাগারে থাকলেও ব্যারিস্টার সুমন আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি কারাবন্দি অবস্থায় বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি আইনি লড়াই ও রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। তবুও, মামলার পাহাড় ও আইনি জটিলতায় তার মুক্তি বা স্বাভাবিক জীবনে ফেরা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, যে হারে একের পর এক মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে, তাতে ব্যারিস্টার সুমনের দীর্ঘ সময় কারাগারেই থাকার সম্ভাবনাই প্রবল।

0 মন্তব্যসমূহ