সরকারি কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সংবেদনশীল ও গোপনীয় তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যাওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি থাকায় এই পদেক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
ইদানীং দাপ্তরিক কাজ দ্রুত ও সহজ করতে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এআই টুলস ব্যবহার করছেন। তবে এসব প্ল্যাটফর্মে নথি, ইমেইল বা গোপনীয় তথ্য ইনপুট দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবেই বিদেশি সফটওয়্যার বা তৃতীয় পক্ষের ডেটাবেইজে সংরক্ষিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিরাপত্তা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অধিকাংশ এআই সিস্টেম ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য শেখার (Training Data) জন্য সংরক্ষণ করে। ফলে সরকারি কোনো গোপন নথি এআই-তে ব্যবহার করা হলে তা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়।
নির্দেশনা ও মূল ঝুঁকিগুলো:
- তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি: এআই প্ল্যাটফর্মে প্রম্পট বা কমান্ড দেওয়ার সময় দেওয়া যেকোনো দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত তথ্য ডেটা প্রসেসিং সার্ভারে জমা থাকে।
- তৃতীয় পক্ষের প্রবেশাধিকার: অনেক এআই সার্ভিস তথ্য তৃতীয় পক্ষের সাথে শেয়ার করে বা নিজস্ব গবেষণায় ব্যবহার করে, যা সরকারি গোপনীয়তা আইনের পরিপন্থী।
- সতর্কতামূলক ব্যবস্থা: দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো গোপনীয় নথি, অর্থনৈতিক উপাত্ত বা নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য এআই প্ল্যাটফর্মে আপলোড না করতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সরকারি দপ্তরে নিজস্ব ও নিরাপদ এআই অবকাঠামো বা 'সিকিউর এআই মডেল' তৈরির ওপর জোর দিচ্ছেন, যাতে প্রাতিষ্ঠানিক ও জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রেখে প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয়।

0 মন্তব্যসমূহ