দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস-সংকটে ধুঁকতে থাকা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের ডাইং কারখানাগুলো এবার এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নতুন নির্দেশনা ও গ্যাসের সার্বিক অপ্রাপ্তির কারণে জেলার দেড় শতাধিক ডাইং কারখানার উৎপাদন প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে।
সংকটের পেছনের মূল কারণ
- পাইপলাইনে তীব্র গ্যাস সংকট: দীর্ঘদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ মিলছিল না। ফলে অধিকাংশ কারখানা পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারছিল না।
- সিএনজি সিলিন্ডার সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা: পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা সিএনজি স্টেশন থেকে বিশেষ সিলিন্ডারে (ক্যাসকেড বা সিএনজি ডোর টু ডোর) গ্যাস এনে কারখানা সচল রেখেছিল। কিন্তু তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক কড়াকড়ি ও নতুন নির্দেশনার ফলে সিএনজি স্টেশন থেকেও সিলিন্ডারে গ্যাস নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।
- উৎপাদন ধস: দ্বিমুখী এই সংকটের কারণে সমিতিভুক্ত প্রায় দেড় শতাধিক কারখানার অধিকাংশেই উৎপাদন অর্ধেকের বেশি, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছে।
মারাত্মক পরিণতির আশঙ্কা
শিল্পমালিক ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের অনেক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
- বেকারত্বের ঝুঁকি: কারখানাগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে অগণিত পোশাক ও টেক্সটাইল শ্রমিক চাকরি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়বেন।
- রপ্তানিতে আঘাত: তৈরি পোশাকের প্রাণকেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে পরিচিত। ডাইং শিল্প স্থবির হয়ে পড়লে সামগ্রিক তৈরি পোশাক রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
বিকল্প পথের সন্ধান: সংকট কাটাতে কিছু প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। উদাহরণস্বরূপ, আড়াইহাজারের দু-একটি কারখানা বায়োমাস বা ধানের তুষ ব্যবহার করে প্ল্যান্ট সচল রাখার চেষ্টা করছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার জন্য এ ধরনের প্রযুক্তি রূপান্তর রাতারাতি সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিল্প খাতকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা অথবা সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত অন্তর্বর্তীকালীন নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

0 মন্তব্যসমূহ