Ticker

6/recent/ticker-posts

​'জেন-জিদের জন্ম দিচ্ছে কারা, রিলস দেখলে বমি আসে': আন্দোলনকারী তরুণদের 'জেনারেশন গাটার' আখ্যা দিয়ে বিতর্কে কঙ্গনা


 

প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের প্রতিবাদী তরুণ-তরুণীদের নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রনৌত। জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কৌশল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিলস নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিতে গিয়ে তিনি তাদের 'জেনারেশন গাটার' (নর্দমার প্রজন্ম) বলেও অভিহিত করেছেন।

​সম্প্রতি ভারতের প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। দীর্ঘ আন্দোলন ও বিক্ষোভের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে।

​তবে এই আন্দোলনের রিলস ও পোস্ট দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একের পর এক বিস্ফোরক পোস্ট দেন কঙ্গনা রনৌত।

​কঙ্গনা রনৌতের বিতর্কিত মন্তব্যসমূহ:

  • ​'বমি আসার মতো পরিস্থিতি': কঙ্গনা আন্দোলনকারীদের ভাষার সমালোচনা করে লেখেন, "জীবনে এক জায়গায় এত কুরুচিপূর্ণ এবং নোংরা দৃশ্য আমি কখনো দেখিনি। জেন-জিদের আন্দোলনের এসব রিলস দেখলে বমি আসে। এদের ভাষা ও কথা বলার ধরন অত্যন্ত জঘন্য।"

  • ​বাবা-মাকে নিয়ে প্রশ্ন: ক্ষোভ প্রকাশ করে কঙ্গনা আরও লেখেন, "ইউউউ! (Ewwww), এদের জন্ম দিচ্ছে কারা আর লালন-পালনই বা করছে কারা?"

  • ​'জেনারেশন গাটার' ও তীব্র আক্রমণ: পরবর্তী এক পোস্টে তিনি তরুণীদের ওপর তোপ দেগে লেখেন, "এদের পড়াশোনাতেও মন নেই, আবার এরা এতটাই কুৎসিত যে গৃহিণীও হতে পারবে না। এরা তথাকথিত পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুকরণ করতে চায়। এদের আমি বলি 'জেনারেশন গাটার'।"

  • ​ডিজিটাল ডিটক্সের দাবি: আন্দোলনকারীদের পোস্ট দেখে তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, এর থেকে মুক্তি পেতে তার 'ডিজিটাল ডিটক্স' বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি দরকার।

​রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

​কঙ্গনা রনৌতের এমন মন্তব্যের পর ভারতে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে:

  • ​বিরোধী দলগুলোর তোপ: কংগ্রেস নেতা ভাই জগতাপ এবং এআইএমআইএম (AIMIM) নেতা ওয়ারিস পাঠান কঙ্গনার এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর এত বড় অন্যায়ের পর একজন নারী ও সাংসদ হয়ে কঙ্গনা যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

  • ​ক্ষমা চাওয়ার দাবি: বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তিনি কঙ্গনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছে কঙ্গনাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেন।

  • ​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড়: নেটিজেনদের বড় একটি অংশ কঙ্গনার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলছেন, অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নামা তরুণদের এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপমান করা কোনো জনপ্রতিনিধির সাজে না।

​তবে যথারীতি কঙ্গনার অনুগামীরা তাঁর এই মন্তব্যকে তাঁর 'স্পষ্টভাষিতা' হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ