নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
৪ জুলাই, ২০
২৬
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও শহীদদের রক্তের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ‘জুলাই সনদ’ শতভাগ বাস্তবায়ন ছাড়া দেশে সুশাসন ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ।
রাজশাহীতে দলটির এক স্থানীয় সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী যদি দেশ পরিচালিত হয়, তবেই কেবল দেশে প্রকৃত সু/শা/স/ন প্রতিষ্ঠা পাবে। বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোয় কোনো ধরনের গুণগত সংস্কার না করে কেবল নির্বাচনের দিকে এগোলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্কার ও সুশাসনের ওপর জোর
জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্যই ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার আমূল সংস্কার। কিন্তু বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে এই সনদ বাস্তবায়নে এক ধরনের শ্লথগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের আপস বা গড়িমসি মেনে নেওয়া হবে না। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে এবং জনমানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি।"
পিআর পদ্ধতি ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দাবি
রাজশাহীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, দেশে চিরতরে ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) নির্বাচনী ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহলের প্রপ্রোচণায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সমাবেশে জানানো হয়, সংসদের ভেতরে আলোচনার পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথেও চাপ সৃষ্টি করা হবে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ৫ আগস্ট দেশব্যাপী যে গণমিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে, তা সফল করতে রাজশাহীর সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে আগে জুলাই সনদের সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, তার পরেই কেবল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।"

0 মন্তব্যসমূহ