নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানী ঢাকার চিরচেনা লক্কড়-ঝক্কড় ও কালো ধোঁয়া ছড়ানো বাসের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। ঢাকার গণপরিবহনে আধুনিকতা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। বায়ুদূষণ রোধ এবং যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিকায়নে চীন থেকে আমদানি করা হচ্ছে ৫০০টি সর্বাধুনিক ইলেকট্রিক (ইভি) বাস।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং সরকারের বিশেষ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট’ (ফেজ-১)-এর অধীনে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে চীনের সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাস ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
বদলে যাবে ঢাকার চেনা রূপ
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের শেষ নেই। ভাঙাচোরা বডি, কালো ধোঁয়া আর লক্কড়-ঝক্কড় ফিটনেসবিহীন বাসই এতকাল ছিল রাজধানীর প্রধান বাহন। তবে এবার সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
- সবুজ ও দূষণমুক্ত ঢাকা: বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ৫০০টি ডিজেল চালিত বাসকে ইলেকট্রিক বাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করলে প্রতি বছর প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ টন কার্বন নিঃসরণ কমবে।
- খরচ কমবে ৭৫% পর্যন্ত: ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DCCI)-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেখানে সাধারণ ডিজেল বা পেট্রোল বাসের প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয় ১১-১৪ টাকা, সেখানে ইলেকট্রিক বাসের পরিচালনা খরচ মাত্র ২.৮ থেকে ৩.৮ টাকা। অর্থাৎ, জ্বালানি খরচ কমবে প্রায় ৭৫%!
- প্রতিবন্ধীবান্ধব ডিজাইন: নতুন ইভি বাসগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী নাগরিকরা খুব সহজেই ওঠানামা করতে পারেন।
থাকবে আধুনিক স্মার্ট সুবিধা
শুধুমাত্র বাস আসাই নয়, পুরো পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি (Bus-Route Franchise) নিয়মের অধীনে আনা হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাসগুলোতে থাকবে:
১. সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) ব্যবস্থা।
২. ইলেকট্রনিক ফেয়ার কালেকশন বা ডিজিটাল টিকিট সিস্টেম।
৩. প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেম ও ট্র্যাকিং অ্যাপ, যার মাধ্যমে বাসটি কোথায় আছে তা সহজেই জানা যাবে।
চার্জিং স্টেশন ও অবকাঠামো নির্মাণ
ইলেক্টিল বাসের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো চার্জিং স্টেশন। এর জন্য রাজধানীর প্রধান বাস ডিপো ও টার্মিনালগুলোর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগকে বেগবান করতে সরকার সম্প্রতি বৈদ্যুতিক বাস আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং ইভি চার্জিং স্টেশনের ট্যাক্স ৩৯.৭৫% থেকে কমিয়ে ০% (শূন্য) ঘোষণা করেছে।
পরিবেশ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্কড়-ঝক্কড় বাসের অবসান ঘটিয়ে এই ৫০০ ইলেকট্রিক বাসের আগমন শুধু একটি প্রকল্পের সূচনা নয়, এটি হবে স্মার্ট ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

0 মন্তব্যসমূহ