নিজস্ব প্রতিবেদক | ৯ জুলাই, ২০২৬
সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং উজানের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুই বিভাগের মোট ১০টি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আরও ৪টি পয়েন্টে পানি সতর্ক সীমায় অবস্থান করছে।
এই পরিস্থিতির কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৭টি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিপৎসীমার ওপর থাকা প্রধান নদী ও পয়েন্টসমূহ:
১. সিলেট বিভাগ:
সিলেট বিভাগের ৪টি প্রধান নদীর ৬টি পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার ওপরে। এগুলো হলো:
- কুশিয়ারা নদী: মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্ট।
- মনু নদী: মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার সদর পয়েন্ট।
- ধলাই নদী: কমলগঞ্জ পয়েন্ট।
- খোয়াই নদী: বল্লা ও হবিগঞ্জ সদর পয়েন্ট। (এছাড়া কুশিয়ারা নদীর শেওলা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর স্টেশন সতর্ক সীমায় রয়েছে।)
২. চট্টগ্রাম বিভাগ:
পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রধান নদীগুলোর ৪টি পয়েন্ট বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে:
- সাঙ্গু নদী: বান্দরবান সদর ও দোহাজারী (চট্টগ্রাম) পয়েন্ট।
- মাতামুহুরী নদী: লামা (বান্দরবান) ও চিরিঙ্গা (কক্সবাজার) পয়েন্ট। (পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলার হালদা নদীর পানি পাঁচপুকুরিয়া পয়েন্টে সতর্ক সীমায় আছে।)
সংশ্লিষ্ট জেলার সতর্কতা
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, মূলত সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন এলাকাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের নির্দেশনা
- ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে বলা হয়েছে।
- অপ্রয়োজনে নদীতে চলাচল থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ