নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৭ জুলাই, ২০২৬
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, সংসদীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত হয়েছে ‘ককাস অব আমেরিকা ইন ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ’। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে বহুমুখী অংশীদারিত্বের যে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, এই ককাস সেই সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নেতৃত্ব ও গঠন
এই ককাসের নির্বাহী কমিটিতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. ওসমান ফারুক এবং কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান। ১০ সদস্যের এই কমিটিতে সংসদের বিভিন্ন আসনের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
ককাসের উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
- ব্যারিস্টার নওশাদ জামির (পঞ্চগড়-১)
- ব্যারিস্টার আন্দালীব রহমান (ভোলা-১)
- জনাব হুমাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭)
- জনাব আখতার হোসেন (রংপুর-৪)
- জনাব মির আহমেদ বিন কুশেম (ঢাকা-১৪)
- জনাবা নিপুন রায় চৌধুরী
- জনাবা সানজিদা ইসলাম
- জনাবা মারদিয়া মোমতাজ
ককাসের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় ককাস হলো কোনো নির্দিষ্ট ইস্যু বা দেশভিত্তিক সংসদ সদস্যদের একটি স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ফোরামের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা হয়। ‘ককাস অব আমেরিকা’ গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো:
১. দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা: বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, মেরিটাইম সিকিউরিটি এবং সন্ত্রাস দমনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করা।
২. সংসদীয় কূটনীতি: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণে কাজ করা।
৩. স্বার্থ সংরক্ষণ: সংসদীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে মধ্যস্থতা করা।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
ককাস গঠনের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস বা ‘ফ্রিডম ২৫০’ পালিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এই সম্পর্ককে ‘জনগণের সাথে জনগণের অংশীদারিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংসদ ভবনের স্থপতি লুই কান ছিলেন মার্কিন নাগরিক, যা দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের এক অনন্য নিদর্শন।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদে এই অনানুষ্ঠানিক ফোরামের উপস্থিতি ভবিষ্যতে দুই দেশের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনার নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে, যা ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ