Ticker

6/recent/ticker-posts

চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার দাবি

The Daily Alokbarta


নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’ (DP World)-এর কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধের জোরালো দাবি উঠেছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ মোড়ের ফালাহিয়া চত্বরে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানায় ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এবং একটি লাভজনক জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এই বন্দর কেবল পণ্য পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং এর সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো সুসংগঠিত ও লাভজনক দেশীয় সম্পদ এভাবে বিদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া যুক্তিহীন ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

​সার্বভৌমত্ব ও ভূ-রাজনীতির সংকট

​সমাবেশে সংগঠনের আহ্বায়ক মুহাম্মদ আরিফ আল খবির অভিযোগ করেন, এই ইজারা প্রক্রিয়ার পেছনে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল জড়িত থাকতে পারে। বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা রুখে দিতে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

​সংগঠনের সদস্যসচিব কাজী আহমাদ বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড যে দেশের কোম্পানি, সেই আরব আমিরাত বিতর্কিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। ফলে এমন একটি বিদেশি কোম্পানির হাতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

​উত্থাপিত মূল দাবি ও কর্মসূচি

​সমাবেশ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান প্রধান দাবিগুলো হলো:

  • ​ইজারা বাতিল: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার চলমান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল করা।
  • ​অন্যান্য চুক্তি বাতিল: এপিএম টার্মিনালের সঙ্গে লালদিয়া টার্মিনাল চুক্তি এবং পানগাঁও টার্মিনাল সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করা।
  • ​দেশীয় অপারেটর: চট্টগ্রাম বন্দরের সব টার্মিনাল শতভাগ দেশীয় অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনা নিশ্চিত করা।

​উল্লেখ্য, এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ‘দেশ বাঁচাও, বন্দর বাঁচাও আন্দোলন’ এবং ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে এই ইজারা চুক্তির বিরুদ্ধে লাগাতার কর্মবিরতি ও তীব্র আন্দোলন পরিচালনা করে আসছিল, যার জেরে বন্দর কার্যক্রমে বড় স্থবিরতা তৈরি হয়।

​সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে যদি এই লাভজনক টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধ না হয়, তবে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা আরও কঠোর রাজপথের আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ