অনলাইন ডেস্ক •
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) নির্বাচনী এলাকার জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্ত্রীর এই ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের সংসদীয় জীবনে বিরোধী দলের সদস্য থাকলেও তিনি নিজে কখনো এ ধরনের কোনো বরাদ্দ পাননি।
প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে বরাদ্দ
সংসদ অধিবেশনে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সংসদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বিরোধী দলের সদস্যদের আসনগুলোতে—সিটি করপোরেশন এলাকা বাদ দিয়ে—প্রায় ২০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন। এই অর্থ মূলত নির্বাচনী এলাকার মসজিদ, গোরস্তান ও ঈদগাহের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”
মন্ত্রী আরও জানান, এই বরাদ্দ আপাতত জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকাগুলোতে পরবর্তীতে এই বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।
স্পিকারের স্মৃতিচারণ ও আক্ষেপ
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্যের পরপরই ফ্লোর নিয়ে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন:
“৪০ বছর আমিও এই সংসদে কাটিয়েছি। বিরোধী দলেরও সদস্য ছিলাম। একটি কানাকড়িও কোনোদিন পাইনি। পাঁচবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গিয়েছি, এইটুকুই পেয়েছি। প্রাপ্তিযোগ অন্য কিছু হয়নি।”
স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে স্পিকারের আসনে বসার কারণে তিনি নিজের জন্মভূমি ও নির্বাচনী এলাকা ভোলার সমস্যাগুলো সংসদে তুলে ধরতে পারছেন না। তবে বাজেট আলোচনায় দেশের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি ভোলার সমস্যাগুলো তুলে ধরায় তিনি বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত এসব সমস্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ‘সুবিচার’ করবেন।
এর আগে, গতকাল রবিবার সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। যার প্রেক্ষিতে এলজিআরডি মন্ত্রী আজ সোমবার এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন।

0 মন্তব্যসমূহ