ঢাকা: ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং তাঁর পুরো প্রেস টিমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. আব্দুন নূর তুষার। তাঁর মতে, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী (উপকারভোগী) স্বয়ং ড. ইউনুস এবং তাঁর প্রেস উইং।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই ক্ষোভ ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করেন।
প্রেস উইংয়ের সুবিধা গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন
ডা. আব্দুন নূর তুষার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব থেকে শুরু করে পুরো প্রেস টিমের সদস্যদের নৈতিকতা ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর এই টিমের সদস্যরা নানা ধরনের বৈষয়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।
একটি নির্দিষ্ট সংবাদপত্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন:
"জুলাই থেকে তারা কী কী সুবিধা নেয়নি? প্রেস সচিব থেকে শুরু করে পুরো প্রেস টিম একটি পত্রিকা নিয়েছে।"
"সবচেয়ে বড় উপকারভোগী ড. ইউনুস নিজে"
বক্তব্যে তিনি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন। ডা. তুষার স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে, তার ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন ড. ইউনুস।
তিনি বলেন, "জুলাই সংক্রান্ত উপকারভোগী তো উনি (ইউনুস) নিজে।" তাঁর ইঙ্গিত, জুলাইয়ের আন্দোলনের ওপর ভর করেই ড. ইউনুস আজ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন, অথচ আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা বা সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কতটুকু পৌঁছেছে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।
নানামুখী প্রতিক্রিয়া
ডা. আব্দুন নূর তুষারের এই মন্তব্য ইতিমধ্যে সচেতন নাগরিক ও নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
- সমর্থকদের বক্তব্য: অনেকেই তাঁর এই সাহসী বক্তব্যের প্রশংসা করে বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি। সরকারের প্রেস টিমের প্রভাব খাটানোর প্রবণতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও গুঞ্জন রয়েছে।
- ভিন্নমত: অন্যদিকে, সরকারের সমর্থকদের দাবি—আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে ব্যক্তিগত "সুবিধা" হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
একটি বিপ্লবের পর যখন রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছিল, তখন খোদ সরকারের ভেতরের সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার এই প্রবণতা অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

0 মন্তব্যসমূহ