Ticker

6/recent/ticker-posts

যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ

 

যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শাসক দল লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম। সোমবার (২০ জুলাই, ২০২৬) বাকিংহাম প্যালেসে রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রাজকীয় আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

​পূর্বসূরি কিয়ের স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের ব্যাপক সমর্থনে দলীয় প্রধান নির্বাচিত হন সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এই মেয়র। পরবর্তীতে তিনি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছে দেশের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রথম ভাষণ দেন।

​ভাষণের প্রধান দিক ও ১০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা

​ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে অ্যান্ডি বার্নহাম জানান, গত এক দশকে ষষ্ঠ কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই ঐতিহাসিক পদে তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন। দেশের রাজনীতিতে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে তিনি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন।

​ভাষণে তাঁর উল্লেখ করা মূল প্রতিশ্রুতিসমূহ:

  • ​১০ বছরের জাতীয় রূপরেখা: যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার মান এবং সমাজব্যবস্থাকে নতুন করে পুনর্গঠন করতে চলতি বছরেই ১০ বছর মেয়াদী বিশেষ পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন।

  • ​গৃহহীনতা দূরীকরণ: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম নির্দেশনাই হবে দেশে পথ-গৃহহীনতা (Rough sleeping) দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

  • ​ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: ওয়েস্টমিনস্টার ও হোয়াইটহলকেন্দ্রিক ক্ষমতা কমিয়ে স্থানীয় সরকারগুলোকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন।

  • ​জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো: দেশের সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে গণপরিবহনের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি বিলে সহায়তার বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন।

​নতুন মন্ত্রিসভা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

​দায়িত্ব গ্রহণ করেই প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করেছেন। চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার পদে তিনি নিয়োগ দিয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলিকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে বহাল রাখা হয়েছে শাবানা মাহমুদকে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এড মিলিব্যান্ড।

​দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বার্নহাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। ফোনালাপে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা চুক্তি জোরদার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ