ভারতে প্রথম ডেঙ্গু প্রতিরোধের টিকা হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে ‘কিউডেঙ্গা’ (QDENGA / TAK-003)। ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল (DCGI) জাপানি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাকেডা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস-এর তৈরি এই টিকাকে বাজারজাতকরণের চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিয়েছে।
১. কারা এই টিকা নিতে পারবেন?
- বয়সসীমা: ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী যে কোনো ব্যক্তি এই টিকা নিতে পারবেন।
- আগের সংক্রমণের বাধ্যবাধকতা নেই: অতীতে রক্তে ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়েছিল কি না, তা পরীক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই। পূর্বে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়া বা না হওয়া—উভয় ক্ষেত্রেই এটি নেওয়া যাবে।
২. টিকার মাত্রা ও প্রয়োগ পদ্ধতি
- ডোজ সংখ্যা: এটি ২টি ডোজের একটি প্রতিষেধক।
- সময়সীমা: প্রথম ডোজ নেওয়ার ঠিক ৩ মাস পর দ্বিতীয় (চূড়ান্ত) ডোজটি নিতে হয়। চামড়ার নিচে (Subcutaneous Injection) ০.৫ মিলি মাত্রায় এটি প্রয়োগ করা হয়।
৩. টিকাটি কতটা কার্যকরী?
- চারটি ধরণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা: এটি একটি ‘টেট্রাভ্যালেন্ট লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড’ টিকা, যা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের (DEN-1, DEN-2, DEN-3, DEN-4) বিরুদ্ধেই সমান কার্যকর।
- কার্যকারিতা: ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করার পর এটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৮০.২% এবং ডেঙ্গুর কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে ৯০.৪% পর্যন্ত কার্যকর।
বৈশ্বিক স্বীকৃতি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতোমধ্যেই কিউডেঙ্গা-কে প্রাক-যোগ্যতা (Prequalification) ও অনুমোদন দিয়েছে। ভারতের আগে এটি ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ বিশ্বের ৪৩টিরও বেশি দেশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ