নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
পুরান ঢাকার ধোলাইখালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন একটি পাবলিক টয়লেট (গণ শৌচাগার) দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় বানানোর অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেখানে ব্যানার ঝুলিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
ধোলাইখাল জলাধার সংস্কার প্রকল্পের আওতায় ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি পাবলিক টয়লেটের একটিতে এই দখলের ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে যা দেখা গেছে
জলাধারের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে সদ্য নির্মিত টয়লেট ভবনের সামনে ‘ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দল ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড প্রধান কার্যালয়’ লেখা দুটি বড় ব্যানার ঝুলছে। কার্যালয়ের ভেতরে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী প্রচারের ব্যানারসহ ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন হোসেন এবং সদস্যসচিব মো. পায়েল শেখের ছবি সংবলিত পোস্টারও দেখা গেছে।
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও কাজের অগ্রগতি
ধোলাইখাল জলাধারটিকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন জনপরিসরে রূপান্তরের লক্ষ্যে ২০২৩ সালে ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্প’-এর আওতায় সংস্কারকাজ শুরু করে ডিএসসিসি। সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস প্রকল্পটি উদ্বোধনের সময় একে ‘হাতিরঝিলের চেয়েও দৃষ্টিনন্দন’ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী:
মোট বাজেট: ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
বর্তমান অগ্রগতি: গত এপ্রিল পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ছিল ৮১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ঠিকাদারদের ইতোমধ্যে ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
বাকি থাকা কাজ: নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকল্পের প্রায় ৬০০ মিটার সড়ক, চারপাশের দেয়াল, প্রধান প্রবেশদ্বার, সবুজায়ন এবং ২০টি বেঞ্চ বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। এছাড়া নকশাগত ত্রুটি সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৬ কোটি টাকার নতুন প্যাকেজ অনুমোদন করা হলেও তার কাজ এখনো শুরু হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও পরস্পরবিরোধী দাবি
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারু এন্টারপ্রাইজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান:
"টয়লেটটির মূল অবকাঠামো শেষ হলেও ফিনিশিংয়ের কাজ বাকি। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকেই সেখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানার টানিয়ে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে আমরা বাকি কাজ শেষ করতে পারছি না।"
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা রিয়াজুল কবির বিষয়টিকে কিছুটা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, ডিজাইনের ত্রুটির কারণে কাজ বন্ধ থাকার সময় এবং কোরবানির পশুর হাটের সময় স্থানীয় কিছু লোক সেখানে বসেছিল। পরবর্তী প্যাকেজের কাজ শুরু হলেই তারা জায়গাটি ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যাখ্যা:
যোগাযোগ করা হলে সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাজিম দখল বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন:
"এই স্থানটি আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ক্লাব ছিল, যেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদক বেচাকেনা হতো।
বর্তমানে আমাদের নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় দলের পরামর্শে আপাতত এখানে বসছি। প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হলেই আমরা জায়গাটি ছেড়ে দেব।"
কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ:
প্রকল্প পরিচালক রাজিব খাদেম জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পের এস্টেট বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে লিখিতভাবে সম্পত্তি বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দ্রুত উচ্ছেদ বা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্যসমূহ