Ticker

6/recent/ticker-posts

চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১টি কারখানা বন্ধ: কর্মহীন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কর্মী


 

দীর্ঘদিনের তীব্র আর্থিক সংকট, ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকা এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তীব্র অভাবে চট্টগ্রামে তাদের ১১টি শিল্পকারখানা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ।

​গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) থেকে ধাপে ধাপে নোটিশ টানানোর পর শনিবার (১ আগস্ট) থেকে কারখানাগুলো বন্ধের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে একযোগে প্রায় ৪,৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন।

​বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর তালিকা

​চট্টগ্রামের কর্ণফূলী উপজেলায় অবস্থিত যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে:

  • ​এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড

  • ​এস আলম সিমেন্ট

  • ​এস আলম অয়েল

  • ​এস আলম ভেজিটেবল অয়েল

  • ​এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি

  • ​চেমন ইস্পাত লিমিটেড

  • ​এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড

  • ​এস আলম স্টিল

  • ​এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড

  • ​এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড
  • ​পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী কারখানা

​বিশেষ দ্রষ্টব্য: গ্রুপের মালিকানাধীন বাঁশখালীর কয়লাভিত্তিক ‘এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট’-এর কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানা গেছে।


​উৎপাদন বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণসমূহ

​১. ব্যাংকিং জটিলতা ও এলসি বন্ধ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রুপটির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। নতুন করে কোনো ঋণের ঋণপত্র (LC) খুলতে না পারায় বিদেশ থেকে মূল কাঁচামাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

২. তীব্র আর্থিক সংকট: ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা বন্ধ হওয়া ও মূলধন প্রবাহ না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা ব্যয় নির্বাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

৩. দীর্ঘদিনের লোকসান: প্রায় দুই বছর ধরে কারখানাগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছিল না, যার শেষ পরিণতি হিসেবে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ এসেছে।

 শ্রমিক ও কর্মীদের ওপর প্রভাব

  • ​চাকরিচ্যুতি: কারখানা সূত্রমতে, দুই বছর আগে এসব কারখানায় ৮ হাজারেরও বেশি কর্মী কর্মরত ছিলেন। ধাপে ধাপে ছাঁটাইয়ের পর অবশিষ্ট থাকা সাড়ে ৪ হাজার কর্মী ১ আগস্ট থেকে পুরোপুরি কাজ হারিয়েছেন।

  • ​পাওনা পরিশোধ: কারখানা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী কর্মীদের যাবতীয় বকেয়া বেতন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে।

  • ​জরুরি সেবা চালু: কারখানাগুলোর সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপত্তাকর্মী ও বিদ্যুৎ বিভাগের সামান্য কিছু কর্মীকে পদে বহাল রাখা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ