Ticker

6/recent/ticker-posts

ডিসেম্বরেই দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের ঘোষণা শেখ হাসিনার: রয়টার্সকে বিশেষ সাক্ষাৎকার

The Daily Alokbarta


অনলাইন ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত আছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর, এবার নিজের দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। আগামী ডিসেম্বর মাসেই তিনি দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান বলে জানিয়েছেন।

​সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স-কে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য খোলসা করেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শুরু হয়ে শুক্রবার পর্যন্ত গড়ানো প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সি হাসিনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

​‘যদি মৃত্যুও আসে, নিজের মাটিতেই হোক’

​সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশের ফেরার বিষয়ে তার অনড় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন:

​"দেশে ফেরার পর ওরা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর চরম দমন-পীড়ন চলছে। যদি মৃত্যুও আসে, আমি চাই সেটা আমার নিজের মাটিতেই হোক—যে মাটিতে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন, যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।"


​নেতাদের সাথে নিয়ে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা

​শেখ হাসিনা জানান, নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসতে চান এবং তারা সবাই একসঙ্গে আদালতে হাজির হবেন। এর মাধ্যমে তারা দেখতে চান যে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বিচারব্যবস্থা কেমন আচরণ করে। তিনি বলেন, "আমি বিচারব্যবস্থায় বিশ্বাস করি এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে এই আদালত কতটা প্রহসনমূলক।"

​তার এই প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতাও ফিরে আসতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে কামাল নিজেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত।

​দীর্ঘ ২০ বছরের ক্ষমতার অবসান ও ট্রাইব্যুনালের রায়

​টানা কয়েক মেয়াদ মিলিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকার পর, ২০২৪ সালের নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে, ছাত্র-জনতার সেই অভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন ও গণহত্যা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার দায়ে দেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) তাকে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। নির্বাসনে থাকা হাসিনা অবশ্য শুরু থেকেই এই সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে অস্বীকার করে আসছেন।

​ঢাকা কর্তৃপক্ষ তাকে হস্তান্তরের জন্য ভারতকে বারবার চিঠি দিচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেন, "ওরা আমাকে দেশে ফেরাতে চায়, আমি নিজেই চলে যাব।" তবে তিনি কোন সুনির্দিষ্ট তারিখে বা কোন আদালতে প্রথম হাজির হবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

​নিপীড়ন ও সাজার ভয় উপেক্ষা করে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ