ঢাকা: বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের অগ্রগতির কথা জানিয়েছে সরকার। পাচার করা সম্পদ ও অর্থ দেশে ফেরত আনতে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১০টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৩টি দেশের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি জানান, গত ১৭ বছরে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে ও সমন্বিত উপায়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে জানিয়েছেন যে, অর্থ পাচারের প্রধান গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।
চূড়ান্ত হয়েছে ৩ দেশের চুক্তি
১০টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও আইনি সহযোগিতা (Mutual Legal Assistance) বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এই তিন দেশের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত বা স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। বাকি দেশগুলোর সাথেও প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
চিহ্নিত হওয়া প্রধান ১০টি দেশ হলো:
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং হংকং (চীন)।
রাতারাতি নয়, প্রক্রিয়াটি চলমান
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন,
"পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়। তাই এটি রাতারাতি বা একদিনে সম্পন্ন হওয়ার মতো বিষয় নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ইতিবাচক সাড়া এবং চলমান আলোচনার মাধ্যমে আমরা অনেকখানি এগিয়েছি। জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার এই প্রক্রিয়া জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।"
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শ্বেতপত্র কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে এনে দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত করতে সরকার তথ্য আদান-প্রদান, সম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ