যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আবারও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা এবং সাংবাদিকদের গোপন উৎস উন্মোচনের অভিযোগ উঠেছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের আদালতের নথিতে উঠে আসা এক বিস্ফোরক তথ্যে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ন্যায়বিচার বিভাগ (DOJ) কেবল সাংবাদিকদেরই নয়, বরং তাদের পরিবার ও স্বজনদের ফোন রেকর্ড ও মেসেজিং তথ্য জব্দের জন্য থার্ড-পার্টি ফোন কোম্পানিগুলোকে সমন বা সাবপোনা পাঠিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য কাতার থেকে পাওয়া উপহারের ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানের নিরাপত্তা ত্রুটি ও কৌশলগত ঘাটতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই তথ্যের গোপন উৎস বা ‘লিক’ কে করেছিল—তা শনাক্ত করতেই মার্কিন প্রশাসন এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেয়।
অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ
পরিবারের সদস্যদের ওপর নজরদারি: তিন নিউ ইয়র্ক টাইমস সাংবাদিকের বাইরেও একজন সাংবাদিকের মা এবং দুজন সাংবাদিকের স্ত্রী/স্বামীর ফোন রেকর্ড তলব করা হয়েছে।
নিয়ম লঙ্ঘনের দাবি: আদালতের নথিতে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, প্রশাসন নিজস্ব নীতিমালা অমান্য করে সাংবাদিকদের আগে থেকে কোনো নোটিশ না দিয়েই গোপনে সাবপোনা জারি করেছে।
তদন্তের পরিসর: শুধু মূল প্রতিবেদনের সময়কালের নয়, বরং চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ফোন রেকর্ড তলব করা হয়েছে। সংবাদপত্রের মতে, এটি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য ফাঁসের তদন্ত নয়, বরং সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের তথ্যের উৎসগুলোর ওপর সার্বিক নজরদারির অপচেষ্টা।
ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া ও আইনি লড়াই
ন্যায়বিচার বিভাগের দাবি:
ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস থেকে জানানো হয়েছে, “স্পষ্ট করে বলা দরকার—সাংবাদিকরা সরকারের টার্গেট নন; সরকারের টার্গেট কেবল তারাই, যারা রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য লিক বা প্রকাশ করছেন।”
প্রেস ফ্রিডম ও মুক্ত গণমাধ্যম আন্দোলনের কর্মীরা এই ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা স্তব্ধ করার এক ভয়াবহ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ইতোমধ্যে সমন বাতিল (Quash) করার জন্য আদালতে আইনি লড়াই শুরু করেছে এবং এক মার্কিন বিচারক সাময়িকভাবে সরকারের এই সাবপোনা বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

0 মন্তব্যসমূহ