হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে যে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে লক্ষ্য করে অসত্য যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে 'মিডিয়া ট্রায়াল' চালানো হচ্ছে। সংগঠনটির দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এসব প্রচারণা চালানোর পেছনে একটি চিহ্নিত প্রগতিশীল মহল এবং স্থানীয় ভূমিদস্যুদের হাত রয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মীয় শিক্ষার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের চোখে হেয় করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মূল অভিযোগ ও হেফাজতের বক্তব্য
হেফাজতে ইসলামের বিজ্ঞপ্তিতে মূল যে পয়েন্টগুলো তুলে ধরা হয়েছে:
- জায়গা-জমি দখলের চক্রান্ত: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কওমি মাদ্রাসাগুলোর সম্পত্তি ও জায়গা-জমি দখলের উদ্দেশ্যে একটি মহল মিথ্যা যৌন হয়রানির নাটকের আশ্রয় নিচ্ছে।
- মিডিয়া ট্রায়াল ও ভূমিদস্যুতা: কোনো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচারিক বা প্রশাসনিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে 'মিডিয়া ট্রায়াল' শুরু করা হচ্ছে, যার সুযোগ নিচ্ছে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা।
- 'প্রগতিশীলদের' লক্ষ্যবস্তু: সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, তথাকথিত প্রগতিশীল গোষ্ঠী ধর্মীয় শিক্ষা ও কওমি মাদ্রাসা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ধারাবাহিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
হেফাজতে ইসলামের বিবৃতি থেকে:
“সম্প্রতি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদ্রাসার জায়গা-জমি দখলের চক্রান্তস্বরূপ মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলেও আমরা জেনেছি। সুষ্ঠু তদন্তের আগেই মিডিয়া ট্রায়ালের সুযোগ নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা।”
দাবি ও আহ্বান
১. সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত: কওমি মাদ্রাসা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ উঠলে তার পেছনে কোনো কায়েমী স্বার্থ কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
২. অপপ্রচার রোধ: ভিত্তিহীন তথ্যের ওপর ভর করে বিচারিক প্রক্রিয়ার আগেই মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৩. আইনি সুরক্ষা: ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমিজমা বা সম্পদ দখলের যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমনের দাবি করা হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ